একটি সাধারণ প্রশ্ন, কে স্মার্ট হতে চান না? উত্তর: প্রত্যেকেরই এটি মানব প্রকৃতির খেলা, সবাই চায় স্মার্ট হতে চায়। কেউ পুরো দিনটি পার্লারে কাটায়, এবং যে কেউ স্যালন বা স্পন দিয়ে ফিরে আসে, শেষ জিনিসটি ফিরে আসে। আবার আমাকে স্মরণ করিয়ে, চেতনা দৃষ্টিভঙ্গি না। আপনি যদি প্রথম জিনিস হতে কতটা স্মার্ট তা মনে করেন তবে আপনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় নষ্ট করেছেন বলে মনে হবে। কিন্তু আপনার সময় এখনো শেষ হয়নি। আপনি যদি শেষ করতে চান, আপনি এটি স্মার্ট করতে পারেন।
কিভাবে স্মার্ট হওয়া যায় - How To Be Smart

চেতনা সম্পর্কে কিছু জানি না। আমি বলছিলাম যে আপনি যে জিনিসগুলি স্মার্ট করতে চান তা হল দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, অর্থাৎ রূপরেখা পরিবর্তন। পোষাক, চেহারা, চুল, নখ, স্কার্ফ, মাথা স্কার্ফ, হিপ, কোমর ব্যাস, হিপ দৃশ্যমানতা, টাইট প্যান্ট, উচ্চ হিল জুতা ইত্যাদি। এর সবই মানুষের বাইরে বাইরের অংশগুলির মধ্যে পরিবর্তন। এবং এই পরিবর্তনটি স্মার্টনেসের একটি ছোট অংশ। ব্যক্তিটি যদি সচেতন ছিল যে ব্যক্তিটি স্মার্ট ছিল, তাহলে গ্রহের প্রত্যেকটিই স্মার্ট হয়ে উঠতো। এটা বলতে এত সহজ নয়। কিন্তু কিছুই কঠিন নয় তবে এটি কঠিন নয়।
স্মার্টনেস আর স্টাইল এই দুইয়ের মধ্যে অনেক তফাৎ। স্মার্ট বলতে যা বুঝায় তা হল, বুদ্ধিমান এবং চতুর শ্রেনীর জ্ঞানী মানুষ। সবকিছুতেই কিছু না কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কথায় কাজে, চলাফেরায় কিংবা আচরনে থাকবে আকর্ষন, সে-ই স্মার্ট। গড়পড়তা যা চলমান তা নিয়ে স্মার্ট হওয়া যায় না। আবার স্টাইল হলো সেই সব ভিজিবল কিংবা অদৃশ্য প্রকাশ যা অন্যকে প্রভাবিত করে ফেলতে পারে। যেমন হাটার স্টাইল, কথার স্টাইল, লেখার স্টাইল, চুলের স্টাইল, নখের স্টাইল, পোশাকের স্টাইল, চিন্তা করার স্টাইল, সমাধান দেয়ার স্টাইল ইত্যাদি। এসব স্টাইল এবং আউটলুকিং মিলে হয় স্মার্টনেস।
আমার মনে হয় এতক্ষনে আপনারা এও বুঝে গেছেন যে স্মার্ট হওয়া অতটা সহজ নয়। একটা স্মার্টবয় অথবা স্মার্ট গার্ল হতে গেলে শ্রম দিয়ে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে হয়। ব্র‍্যান্ডের কিছু জিনিস কিনে স্মার্ট হবার কথা ভুলে যান।

কিভাবে স্মার্ট হওয়া যায়?
আবারো সেই প্রশ্নে ফিরে আসার কারন হল কত দ্রুত এই কাজ শেষ করা যায়? এত কিছু অর্জনের কারনে স্মার্ট হতে অনেকেরই বহুদিন লেগে যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব শর্টকার্ট কিছু পদ্ধতি জেনে রাখা উচিৎ।
কথাবলা এবং পোশাক আশাক– মানুষের প্রথম প্রকাশ হয় তার কথায়। আমি জানি অনেকেই বলবেন, তার পোশাকে। দুটোই সঠিক। কারন, আপনি কোথাও গেলেন, আর কোন কথা না বলে চলে আসলেন, তাহলে সেখানকার লোকেরা বলবেন- এক লোক এসেছেন দেখে মনে হয়না ভদ্রলোক। এর কারন কি? ভদ্র পোশাক ছিল না মানে কি? কোন পোশাক ভদ্র আর কোন পোশাক অভদ্র? অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে, কথা বলার পর মনে হয়েছে ক্ষেত। কমেন্টের পর জানা গেল একজন ক্ষেত এসেছেন। মোদ্ধা কথা হল মানুষ মানুষকে কথা এবং পোশাক দুই জিনিস দিয়েই মেপে নেয়। কেউ এর আর ভিতরে যেতে চায় না।
তাই সবার আগে উচিত সুন্দর করে কথা বলা। কথা বলার সময় কোন অপ্রাসংগিক মন্তব্য না করা। কারো নেগেটিভ দিক না বলে পজেটিভ দিক বলা। সম্মান করতে শেখা। বয়সে ছোট হলেও আপনি সম্বোধন করা। নিজের কথা দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া যে আপনি একেবারে নিচু লেভেলের নন। পোশাকের ক্ষেত্রে কমন পোশাক পরা। কালার নির্বাচনের ক্ষেত্রে চকচকে কালার পরিহার করা। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পোশাকের ব্যবহার করা। তবেই একজন দেখলেই আপনার সম্পর্কে ভাল কিছু না বললেও খারাপ কিছু বলার সাহস পাবে না।
আচার ব্যবহার– মানুষের পরিচয় তার আচার ব্যবহারে হয়। ভাল মানুষকে মনে রাখেন সবাই। আচার ব্যবহার একজন মানুষকে সর্বোচ্চ স্মার্ট করে তুলতে পারে। তাই আচার ব্যবহারে অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিত।
খারাপ অভ্যাস– অনেকেরই খারাপ কিছু অভ্যাস থাকে। এসবের কারনে তারা নিজেদের অবস্থান হারিয়ে ফেলেন। যেমন- নেশাভান করা, নারীর প্রতি দুর্বলতা, উৎকট পোশাক আশাক ব্যবহার। অসোভন কিছু করা ইত্যাদি। এসব বাদ দিতে হবে যত দ্রুত পারা যায়। তা না হলে স্মার্ট হতে পারা যায় না।
রুচিশীল কাজ করা- গান শোনা, বই পড়া, কিংবা ভাল মুভি দেখা, চিত্র কর্ম , সামাজিক সহযোগীতা, স্বেচ্ছাসেবিক ইত্যাদি কর্ম একজন মানুষকে অনেক স্মার্ট করে তুলতে পারে। যে যত বেশি স্মার্ট সে তত বেশি রুচিশীল কাজ করেন।
মেজাজের ভারসাম্যতা– মানুষের মেজাজ সবসময় এক থাকে না। স্মার্ট ব্যক্তির মেজাজের কন্ট্রোল থাকবে অনেক বেশি। সেজন্য কিছু না কিছু প্রাকটিজ অর্থাৎ অনুশীলন দরকার। যোগ ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। কাজ না হলে মেডিটেশন পদ্ধতির আশ্রয় নিন। রাগ নিয়ন্ত্রন না করা গেলে জীবনে শুধু স্মার্টনেস ই নয় অনেক কিছুই হারাতে হয়।
সৎ এবং সত্যবাদী– স্মার্ট লোকেরা আজকাল এই অংশটি বাদ দিয়েই স্মার্ট বনে যাচ্ছেন। দেখলে হাসি পায়। যারা নির্ভিক তারাই হয় সৎ এবং সত্যবাদী। যে নিজের অন্যায় “অন্যায়” হিসেবে জানাতে ভয় পায় সে হয় মিথ্যাবাদী। তাই সত্যবাদী হয়ে স্মার্ট হওয়াটা আবশ্যক। একজন মিথ্যাবাদী মানুষ যতই স্মার্টনেস অর্জন করুক না কেন, স্থায়ী হন না বেশি দিন। সৎ মানুষের কথা অনেকদিন মানুষ মনে রাখেন।
একজন স্মার্ট মানুষের সংজ্ঞা যেমন কঠিন, তেমনি অল্প কিছু কাজ করে স্মার্ট হতে যাওয়া আরো বেশি কঠিন । তবে অনুশীলন একটি কাজকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। মনে রাখবেন, স্মার্টনেস নিয়ে তার সাথে তর্ক করবেন না যে নিজেই স্মার্ট নয়। যেমন আপনার প্রেমিকা/প্রেমিক, সে নিজে  স্মার্ট না হলে কোন দিন বোঝাতে যাবেন না স্মার্টনেস কী।
আজকাল অফিসের বস নিজেও জানেন না যে কে স্মার্ট আর কিভাবে স্মার্ট হওয়া যায়। তাই সবসময় সাবধান থেকে নিজে স্মার্ট হয়ে বুঝিয়ে দিন আপনি ব্যতিক্রম, বুদ্ধিদীপ্ত আর সত্যবাদী সদাচারী। সমাজের কাছে বলে বুঝানোর চেয়ে করে দেখানোই স্মার্টনেস